আন্তর্জাতিক রাজনীতি আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠছে নতুন এক বিতর্কে। এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে করোনা নামক এক ক্ষদ্র অনুজীব। জ্ঞান-বিজ্ঞান-প্রযুক্তির সাফল্য চূড়ায় অবস্থানরত এই সময় একটি ক্ষুদ্র অনুজীব কিভাবে পুরো বিশ্বকে স্থবির করে দিলো তার সূত্র ধরে প্রশ্ন উঠেছে, এটি কি আদৌ একটি বৈজ্ঞানিক সীমাবদ্ধতা নাকি রাজনৈতিক ব্যর্থতা!
করোনা পরিস্থিতিতে বিভিন্নদেশের রাষ্ট্রকর্তাদের বক্তব্য ও তাদের কার্যক্রম বিশ্লেষক মহলে সমালোচনার ঝড় তুলেছে। করোনা রাজনীতি বলে একটা ডিসকোর্স এর জন্ম হলো যেন। চীন সরকারের কার্যক্রম-ই ধরা যাক, করোনা বিষয়ে চীন সরকার থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষনা আসে ২০২০ এর জানুয়ারি ৩য় সপ্তাহে। অথচ উহানে এই ভাইরাস চষে বেড়িয়েছে ১ মাসেরও বেশি সময় ধরে! এমনকি যে ডাক্তার প্রথম করোনা'র উপস্থিতি সনাক্ত করেন তাকে আটক করা হয়! এ প্রসঙ্গে ২০০৯ সালে চীনে মিল্কপাউডারে মেলানিনের কারনে শিশু মারা যাওয়ার ঘটনা বলা উল্লেখ্য। তখনও চীন সরকার বিষয়টি চেপে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। এখনো ধারনা করা হয় যে চীন আক্রান্ত শিশুর প্রকৃত সংখ্যা গোপন করেছে। করোনা পরিস্থিতিতেও চীন সরকারের একই প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
(জীবাণু অস্ত্র কী এবং কখন তা ব্যবহৃত হয়)
অন্যদিকে বিশ্বমোড়ল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনতুষ্ঠবাদী প্রেসিডেন্ট এর দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য ও কার্যক্রম করোনা পরিস্থিতিতেও অব্যাহত রয়েছে। ট্রাম্প করোনা পরিস্থিতি এর ফলাফল অনুধাবনে ব্যর্থ হয়ে অতপরঃ একবার দুষছেন চীনকে, আবার দুষছেন পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রসাশনকে। শেষমেষ যুক্তরাষ্ট্র থেকে সব ধরনের মাস্ক, কীট ও করোনা চিকিৎসা সামগ্রীর উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্রের অসহায়ত্ব প্রমাণ করেছেন। তার নেতৃত্বের অসারতা ঢাকতে উদ্ভট সব বক্তব্য দিয়েছেন, করোনা ভাইরাসকে ভূয়া বলেও বক্তব্য দিয়েছেন।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানও করোনা মোকাবেলায় রাজনৈতিক দুর্বলতার পরিচয় দিয়েছে। মার্কিন অবরোধ, গোয়েন্দা ব্যর্থতায় কে হারানো ইত্যাদি টানাপোড়েন এর মাঝে চীনে করোনা ভাইরাস এর আবির্ভাব হলে ইরান তাৎক্ষণিকভাবে চীনের সাথে যোগাযোগ সীমিতকরণে প্রস্তুত ছিল না। ইরান থেক চীনে পাঠানো হয় ১ মিলিয়ন মাস্ক, ইরানের বিভিন্ন নির্মাণ খাতে চীনা প্রকৌশলীদের উপস্থিতি রয়ে যায়।
ফলে ইরানে করোনা ছড়িয়ে পড়ে খুব দ্রুত এবং তা বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে রূপ নেয়। অথচ প্রথমদিকে করোনা নিয়ে উচ্চবাক্য করায় অনেককে দোষারোপ করা হয় এই বলে যে তারা আসন্ন নির্বাচনে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এসব করছে।
প্রশ্ন হলো, একবিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞানের উৎকর্ষতা কি করোনা মোকাবেলায় ব্যর্থ হলো? বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা যায়, কোভিড এর ব্যাপারে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক টেবিলে তা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। সার্স (SAARS), মার্স (MERS), ইবোলা ইত্যাদি সংক্রামক রোগের ব্যাপারে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল বৈজ্ঞানিক মহল থেকে। কিছু দেশ এগুলো আমলে নিয়ে করোনা মোকাবেলায় তুলনামূলক সফল হয়েছে। কিন্তু বেশিরভাগ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ জনস্বাস্থের চেয়ে স্টকমার্কেটের স্বাস্থ্য নিয়ে ব্যস্ত ছিল।
আরও পড়ুনঃ
শরীফ মুস্তাজীব
Editor, International Affairs
করোনা পরিস্থিতিতে বিভিন্নদেশের রাষ্ট্রকর্তাদের বক্তব্য ও তাদের কার্যক্রম বিশ্লেষক মহলে সমালোচনার ঝড় তুলেছে। করোনা রাজনীতি বলে একটা ডিসকোর্স এর জন্ম হলো যেন। চীন সরকারের কার্যক্রম-ই ধরা যাক, করোনা বিষয়ে চীন সরকার থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষনা আসে ২০২০ এর জানুয়ারি ৩য় সপ্তাহে। অথচ উহানে এই ভাইরাস চষে বেড়িয়েছে ১ মাসেরও বেশি সময় ধরে! এমনকি যে ডাক্তার প্রথম করোনা'র উপস্থিতি সনাক্ত করেন তাকে আটক করা হয়! এ প্রসঙ্গে ২০০৯ সালে চীনে মিল্কপাউডারে মেলানিনের কারনে শিশু মারা যাওয়ার ঘটনা বলা উল্লেখ্য। তখনও চীন সরকার বিষয়টি চেপে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। এখনো ধারনা করা হয় যে চীন আক্রান্ত শিশুর প্রকৃত সংখ্যা গোপন করেছে। করোনা পরিস্থিতিতেও চীন সরকারের একই প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
অন্যদিকে বিশ্বমোড়ল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনতুষ্ঠবাদী প্রেসিডেন্ট এর দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য ও কার্যক্রম করোনা পরিস্থিতিতেও অব্যাহত রয়েছে। ট্রাম্প করোনা পরিস্থিতি এর ফলাফল অনুধাবনে ব্যর্থ হয়ে অতপরঃ একবার দুষছেন চীনকে, আবার দুষছেন পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রসাশনকে। শেষমেষ যুক্তরাষ্ট্র থেকে সব ধরনের মাস্ক, কীট ও করোনা চিকিৎসা সামগ্রীর উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্রের অসহায়ত্ব প্রমাণ করেছেন। তার নেতৃত্বের অসারতা ঢাকতে উদ্ভট সব বক্তব্য দিয়েছেন, করোনা ভাইরাসকে ভূয়া বলেও বক্তব্য দিয়েছেন।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানও করোনা মোকাবেলায় রাজনৈতিক দুর্বলতার পরিচয় দিয়েছে। মার্কিন অবরোধ, গোয়েন্দা ব্যর্থতায় কে হারানো ইত্যাদি টানাপোড়েন এর মাঝে চীনে করোনা ভাইরাস এর আবির্ভাব হলে ইরান তাৎক্ষণিকভাবে চীনের সাথে যোগাযোগ সীমিতকরণে প্রস্তুত ছিল না। ইরান থেক চীনে পাঠানো হয় ১ মিলিয়ন মাস্ক, ইরানের বিভিন্ন নির্মাণ খাতে চীনা প্রকৌশলীদের উপস্থিতি রয়ে যায়।
ফলে ইরানে করোনা ছড়িয়ে পড়ে খুব দ্রুত এবং তা বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে রূপ নেয়। অথচ প্রথমদিকে করোনা নিয়ে উচ্চবাক্য করায় অনেককে দোষারোপ করা হয় এই বলে যে তারা আসন্ন নির্বাচনে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এসব করছে।
প্রশ্ন হলো, একবিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞানের উৎকর্ষতা কি করোনা মোকাবেলায় ব্যর্থ হলো? বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা যায়, কোভিড এর ব্যাপারে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক টেবিলে তা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। সার্স (SAARS), মার্স (MERS), ইবোলা ইত্যাদি সংক্রামক রোগের ব্যাপারে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল বৈজ্ঞানিক মহল থেকে। কিছু দেশ এগুলো আমলে নিয়ে করোনা মোকাবেলায় তুলনামূলক সফল হয়েছে। কিন্তু বেশিরভাগ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ জনস্বাস্থের চেয়ে স্টকমার্কেটের স্বাস্থ্য নিয়ে ব্যস্ত ছিল।
আরও পড়ুনঃ
শরীফ মুস্তাজীব
Editor, International Affairs


No comments:
Post a Comment