Friday, March 26, 2021

বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে আঞ্চলিক সংযুক্তিঃ নবযুগের সূচনা

 আঞ্চলিক সংযুক্তি, বাণিজ্য, যোগাযোগ ইত্যাদি ক্ষেত্রে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতিতে ১৯৯৭ বিমসটেক এর যাত্রা। গবেষক, নীতিনির্ধারক, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পক্ষ এই আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্ব বিষয়ে একমত; যদিও ঈপ্সিত লক্ষ্য হতে এ অঞ্চলের দেশসমূহ এখনো অনেকটা দূরে। স্বাধীন কিন্তু আন্তঃরাষ্ট্রীয় যোগাযোগের প্রেক্ষাপটে , অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তাগত বাস্তবতায় রাষ্ট্রীয় সীমা অতিক্রান্ত সহযোগিতা আজকের বিশ্বে নিরেট বাস্তবতা। তথাপি, প্রশ্ন থাকে যে এতদঞ্চলের দেশগুলো এক্ষেত্রে কতটা উন্নতিসাধনে প্রাগ্রসর। তদুত্তরে বলা যায়- বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সমৃদ্ধি, ট্যারিফ ও নন-ট্যারিফ বাঁধা নিরসনে, একটি সময়োপযোগী রাজনৈতিক- অর্থনীতির পরিবেশ জরুরী। 


রাজনৈতিক-অর্থনীতির এই প্রবাহে বিভিন্ন কর্মকসমূহের ভূমিকা প্রতিফলিত হয়, জাতীয় ও আঞ্চলিক এই সকল কর্মকসমূহের মিথস্ক্রিয়া আঞ্চলিক লক্ষ্যমাত্রাকে বাস্তবায়ন করে। যার ফলশ্রুতিতে, বিমসটেক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের ভূমিকাকে সমালোচনামূক দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ করা দরকার। পাশাপাশি, বিভিন্ন প্রাইভেট সেকটর, সিভিল সোসাইটি, গণমাধ্যম ইত্যাদি অঙ্গনের ভূমিকাও বিশেষ বিবেচ্য। 



এমতাবস্থায় প্রশ্ন জাগে, আঞ্চলিক এই নবজাগরণে বিশেষ কোন সাংগঠনিক রূপরেখার প্রয়োজন আছে কি না। বিশেষজ্ঞগণ এব্যাপারে হ্যা-সূচক উত্তর দেন। কেননা, বিগত দশকে বিমসটেক এর ধীরগতি লক্ষণীয় ছিল। আর এর অন্যতম কারন হিসেবে এর নমনীয় সম্মিলন এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য এর অনুপস্থিতিকে দায়ী করা হয়। একথা অনস্বীকার্য যে এই রূপরেখা অন্তঃ এবং আন্তঃ আঞ্চলিক সহ বৈশ্বিক এজেন্ডাগুলোকে আলোকপাত করে বাস্তবায়ন করতে হবে। আঞ্চলিক অংশীদারিত্ব মজবুত করতে মুক্তবাণিজ্য ধারণাকে আরো বেশি স্বচ্ছ, সুসংহত এবং সময়োপযোগী করে গড়ে তোলা জরুরী।

অন্যদিকে, দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যকার আন্তঃসহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৮৫ সালে সার্ক নামক একটি আঞ্চলিক ফোরামের যাত্রা। বাংলাদেশ, ভারত,পাকিস্তান,ভুটান, নেপাল, আফগানিস্থান, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা- এই ৮ টি দেশের সম্মিলনে সার্ক এর কার্যক্রম। কিন্তু বিভিন্ন কারনে এই অঞ্চলে সার্ক আশানুরূপ সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়নি। তন্মধ্যে বলা যায়, ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব, নেতৃত্বের অনুপস্থিতি, রাজনৈতিক অনৈক্য ইত্যাদি সার্ক এর সম্ভাবনাকে দুর্বল করেছে। ফলে, এই অঞ্চলের বৈদেশিক বাণিজ্যের মাত্র ৫% আঞ্চলিক বাণিজ্য। তদুপরি, আঞ্চলিক বাণিজ্য উদারীকরণের জন্য গৃহীত সার্ক এগ্রিমেন্ট ইন ট্রেড অ্যান্ড সার্ভিসেস ২০১০ সফল হয়নি।

এই পরিসরেও দক্ষিণ এশীয় ক্ষুদ্র দেশগুলোর মধ্যে সংযোগের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয় বিমসটেক এ। দক্ষিণ এশীয় দেশ বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা সহ দক্ষিণপূর্ব এশীয় দেশ মায়ানমার ও থাইল্যান্ড বিমসটেক এর রূপরেখায় এগিয়ে যাচ্ছে। যদিও এই গতি এখনো মন্থর, তথাপি বর্তমান বাস্তবতায় উল্লিখিত সংস্কার সাধনের মাধ্যমে এই অঞ্চলে আন্তঃসহযোগিতার ক্ষেত্র রচনা করা সম্ভব।


শরীফ মুস্তাজিব

লেখক ও গবেষক



No comments:

Post a Comment