এই মুহুর্তে বিশ্বের প্রায় ১৭০ দেশ করোনা ভাইরাস এ আক্রান্ত। এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতি বিরাজমান সমগ্র বিশ্বে। এমনকি অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ও উন্নত রাষ্ট্রগুলো পর্যন্ত নিজেদের অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছে করোনা মোকাবেলায়। ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ সবকিছু স্থবির। এসবের মাঝে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে এই পরিস্থিতি পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থা নিয়ে। সার্বিক দিক বিবেচনায় দুটো দিক বলা উল্লেখ করা যায়ঃ
১. আগামী দিনগুলোতে নিরাপত্তার ধারনা পর্যালোচনা করতে হবে নতুন আঙ্গিকে।
২. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান থেকে করোনা তথা বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছে।
প্রথম দিকটা খুবই স্পষ্ট। সাধারণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা (traditional security policy) মানব জাতিকে নিরাপদ করতে ব্যর্থ হয়েছে। কোন পারমানবিক কিংবা সামরিক অস্ত্র নয়, একটি জীবাণু সমগ্র বিশ্বের নিরাপত্তাকে ভেঙে দিয়েছে। সামরিকখাতে রাষ্ট্রের ব্যয় কতটুকু যৌক্তিক তা নিশ্চয়ই ভাববেন আগামী দিনে নীতি প্রণেতাগণ। বিশেষতঃ উন্নয়নশীল রাষ্ট্রসমূহ কিংবা শক্তিপ্রদর্শন (power politics) এর রাজনীতিতে যেসকল রাষ্ট্রের অংশগ্রহনের প্রয়োজন নেই তাদের নিরাপত্তানীতি পর্যালোচনার দাবী রাখে। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় সামরিক নিরাপত্তা ও এর বাণিজ্যপ্রবণতার অকার্যকরতা আবারো প্রতীয়মান। মানব নিরাপত্তা’র (human development) প্রাসঙ্গিকতা আবারো জোরালো হবে। অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশগত নিরাপত্তা নিয়ে যুগপৎ ভাবতে হবে সামগ্রিকতা বিবেচনায়। নিরাপত্তা ধারনায় সামগ্রিকতার যুক্তিযুক্ততা আবারো আলোচিত হবে।
দ্বিতীয়ত, করোনা পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের যে ভূমিকা হওয়া উচিত ছিল সে তা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় একটি নেতৃত্বস্থানীয় দেশ হিসেবে তার ভূমিকা খুবই নগন্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে। তার সহযোগী রাষ্ট্রের অবস্থা মোকাবেলায় তো নয়ই, তার নিজের অবস্থা মোকাবেলায়ও সে ব্যর্থ- এটা দৃশ্যমান! ইতিহাসে দিকে তাকালে দেখা যায় ১৯১৮ সালে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে এই ধরনের একটি মহামারীর আবির্ভাব হয় "স্প্যানিশ ফ্লু" নামে। ওই সময়ে ততকালীন পরাশক্তি (hegemon) যুক্তরাজ্য পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়। এর ফলশ্রুতিতেই যুক্তরাজ্য বিশ্বব্যবস্থায় তার নেতৃত্ব হারায় বলে অনেকের মতামত। এই ধরণের দৃষ্টান্তের গ্রহনযোগ্যতা উড়িয়ে দেওয়া যায় না বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে। কেননা যুক্তরাষ্ট্রের ঔষধ আমদানীর ৮০% আসে তার অন্যতম নিকটতম প্রতিদ্বন্দী চীনের কাছ থেকে। এবং সর্বশেষ দেখা যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র বরাবরের মতোই চীনের সাথে সমঝোতার সুরে কথা বলছে। তাহলে প্রশ্ন তোলা যায় যে করোনা পরিস্থিতি চীনের অবস্থানকে আরো সুসংহত করেছে কি না। তবে এই ধারণায় উপসংহারে পৌঁছাতে আরো সময়ের প্রয়োজন!
পড়ুনঃ করোনা ভাইরাস কি জৈব অস্ত্র?
১. আগামী দিনগুলোতে নিরাপত্তার ধারনা পর্যালোচনা করতে হবে নতুন আঙ্গিকে।
২. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান থেকে করোনা তথা বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছে।
প্রথম দিকটা খুবই স্পষ্ট। সাধারণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা (traditional security policy) মানব জাতিকে নিরাপদ করতে ব্যর্থ হয়েছে। কোন পারমানবিক কিংবা সামরিক অস্ত্র নয়, একটি জীবাণু সমগ্র বিশ্বের নিরাপত্তাকে ভেঙে দিয়েছে। সামরিকখাতে রাষ্ট্রের ব্যয় কতটুকু যৌক্তিক তা নিশ্চয়ই ভাববেন আগামী দিনে নীতি প্রণেতাগণ। বিশেষতঃ উন্নয়নশীল রাষ্ট্রসমূহ কিংবা শক্তিপ্রদর্শন (power politics) এর রাজনীতিতে যেসকল রাষ্ট্রের অংশগ্রহনের প্রয়োজন নেই তাদের নিরাপত্তানীতি পর্যালোচনার দাবী রাখে। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় সামরিক নিরাপত্তা ও এর বাণিজ্যপ্রবণতার অকার্যকরতা আবারো প্রতীয়মান। মানব নিরাপত্তা’র (human development) প্রাসঙ্গিকতা আবারো জোরালো হবে। অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশগত নিরাপত্তা নিয়ে যুগপৎ ভাবতে হবে সামগ্রিকতা বিবেচনায়। নিরাপত্তা ধারনায় সামগ্রিকতার যুক্তিযুক্ততা আবারো আলোচিত হবে।
দ্বিতীয়ত, করোনা পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের যে ভূমিকা হওয়া উচিত ছিল সে তা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় একটি নেতৃত্বস্থানীয় দেশ হিসেবে তার ভূমিকা খুবই নগন্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে। তার সহযোগী রাষ্ট্রের অবস্থা মোকাবেলায় তো নয়ই, তার নিজের অবস্থা মোকাবেলায়ও সে ব্যর্থ- এটা দৃশ্যমান! ইতিহাসে দিকে তাকালে দেখা যায় ১৯১৮ সালে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে এই ধরনের একটি মহামারীর আবির্ভাব হয় "স্প্যানিশ ফ্লু" নামে। ওই সময়ে ততকালীন পরাশক্তি (hegemon) যুক্তরাজ্য পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়। এর ফলশ্রুতিতেই যুক্তরাজ্য বিশ্বব্যবস্থায় তার নেতৃত্ব হারায় বলে অনেকের মতামত। এই ধরণের দৃষ্টান্তের গ্রহনযোগ্যতা উড়িয়ে দেওয়া যায় না বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে। কেননা যুক্তরাষ্ট্রের ঔষধ আমদানীর ৮০% আসে তার অন্যতম নিকটতম প্রতিদ্বন্দী চীনের কাছ থেকে। এবং সর্বশেষ দেখা যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র বরাবরের মতোই চীনের সাথে সমঝোতার সুরে কথা বলছে। তাহলে প্রশ্ন তোলা যায় যে করোনা পরিস্থিতি চীনের অবস্থানকে আরো সুসংহত করেছে কি না। তবে এই ধারণায় উপসংহারে পৌঁছাতে আরো সময়ের প্রয়োজন!
পড়ুনঃ করোনা ভাইরাস কি জৈব অস্ত্র?
শরীফ মুস্তাজীব
Editor, International Affairs
No comments:
Post a Comment