Thursday, October 27, 2016

শান্তি ক্যাম্প ও একটি সাদা পতাকা

নাইম হোসেন

  সন্ধ্যা ৭ টা। নুরু মার্কেট। স্থানটি সাতকানিয়া উপজেলার খাগরিয়া ইউনিয়নের একটি স্থানীয় বাজার এবং এ উপজেলার অন্যতম সংঘাতময় স্থান। গ্রামের বাজারের সান্ধ্যকালীন পরিবেশ যেমনটা হয়: খোশগল্প,বাজার-সদাই,তর্ক সবকিছু চলছিলো অন্যান্য দিনের মতোই।হঠাত্‍ পাঁচ তরুন ও এক মধ্যবয়স্ক ভদ্রলোক (তাদের শিক্ষক) 'খালি মুড়ির টিন' ,ঢাকঢোল পিটিয়ে ঘোষনা দেয়া শুরু করলোঃ নাটক! নাটক! নাটক! খাগরিয়া নিয়ে নাটক। প্রত্যন্ত এলাকার একটি বাজারে হঠাত্‍ এমন 'পথনাটকের ঘোষনা' দেওয়ায় মানুষ জড়ো হতে সময় লাগলো না। প্রায় শদুয়েক মানুষের সামনে এরপর শুরু হলো খাগড়িয়ার সামগ্রিক জীবনচিত্র নিয়ে নাটক 'ক্যানে চলর'। তার আগে ঘোষনা এলো নাটকের প্রতিটি অংশের মাঝে থাকবে ঐতিহ্যবাহী 'পুথিপাঠ'। বলার অপেক্ষা রাখে না এ পুথিটিও খাগরিয়া কেন্দ্রিক। যথারীতি পুথিপাঠ দিয়েই শুরুঃ

        "শোনেন শোনেন গেরামবাসী শোনেন দিয়া মন, খাগরিয়ার কথা এখন করিব বর্নন"



Saturday, October 22, 2016

জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীঃ সাফল্য ব্যর্থতার খতিয়ান

বিশ্বের সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক সংঘটন জাতিসংঘ । বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তার ব্রত নিয়ে ১৯৪৫ সালের ২৪শে অক্টোবর জাতিসংঘের যাত্রা শুরু হয় । প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর লীগ অব নেশন্স বা জাতিপুঞ্জ নামের একটি আন্তর্জাতিক সংঘটন প্রতিষ্ঠা হলেও তা আরেকটি বিশ্বযুদ্ধ প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়। শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ । পরপর দুটো বিশ্বযুদ্ধের বিভীষিকা থেকে জন্ম নেয়া এ সংঘটন আজ বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক অগ্রগতি এবং মানবাধিকার বিষয়ে পরস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে । দীর্ঘ ৭০ বছরের এ পথ পরিক্রমায় তার ঝুলিতে রয়েছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য, রয়েছে ব্যর্থতা ।





Tuesday, October 11, 2016

নোবেল শান্তি পুরস্কারের রাজনৈতিক বিবর্তন

নাঈম হোসেন



নোবেল শান্তি পুরস্কার যেভাবে বিবর্তিত হচ্ছে তাতে এ পুরস্কার সম্পর্কে কিছু কথা না বললেই নয়। এটা সত্য যে রাজনীতির প্রভাবমুক্ত থাকাটা কঠিন, আর যখন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের কাজের মূল্যায়নের প্রশ্ন আসে তখন তা প্রায় অসম্ভবের পর্যায়ে পড়ে। তো বলছিলাম যে, নোবেল শান্তি পুরস্কারটির রাজনীতিকরন হয়েছে আসলে অনেক আগেই, এখন যা হচ্ছে তাহলো 'রাজনৈতিক বিবর্তন'। যদিও অনেকের কাছেই এ পুরস্কারটির গ্রহনযোগ্যতা আছে আবার অনেকের কাছেই তা বিতর্কিত। ডিনামাইটের মতো ধ্বংসাত্বক বস্তুর আবিষ্কারকের নামে এ শান্তি পুরস্কার প্রবর্তন করাটা একসময় উপহাসের বিষয়বস্তু ছিল।কিন্তু এর সমান্তরালে এটাও ঠিক যে এ পুরস্কার অনেক মানবহিতৈষী কাজকেও মূল্যায়ন করেছে এবং উত্‍সাহিত করেছে। আচ্ছা আসুন, দেখা যাক কিভাবে এ পুরস্কার বিবর্তিত হচ্ছেঃ

Thursday, October 6, 2016

"ট্রাম্পকে" না আমাদের উচিত "ট্রাম্পবাদ" নিয়ে চিন্তিত হওয়া



নাঈম হোসেন



 আসুন প্রথমে একটু ইতিহাস ঘাটি, সুপরিচিত বার্লিন প্রাচীর পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানির মধ্যকার ভৌগোলিক বিভক্তকারী রেখা হিসেবে ব্যবহৃত হলেও, আমাদের হয়তো জানা যে এটি মূলত আদর্শগত বিভাজনের প্রতীক হিসেবেই সারা বিশ্বে পরিচিত ছিলো। আদর্শ না বলে, বলা উচিত উগ্র মতাদর্শ যা হবে এটির সঠিক সংজ্ঞায়ন। বার্লিন প্রাচীরের প্রসংগ টেনে আনার একটি কারন এই যে, বার্লিন প্রাচীরের যুগ শেষ হলেও উগ্র মতাদর্শীয় যুগ কিন্তু এখনো শেষ হয়নি। অবশ্য এটি খুবই স্বাভাবিক যে যতদিন সামাজিক,সাংস্কৃতিক, বিশ্বাসগত ভিন্নতা থাকবে ততদিন এই মতাদর্শীয় লড়াইও চলবে। তাই এটি নিয়ে চিন্তিত হওয়ারও কোন কারন নেই যতক্ষন না পর্যন্ত একটি মতাদর্শে বিশ্বাসী মানুষরা অন্য মতাদর্শীয় মানুষদের উপর সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখা দেয়।