ঈদের কদিন আগেই হাজির । প্যাকেট খুলতেই কী মিষ্টি সুবাস ! কী নেই! জামা জুতো চকলেট!
ঈদগাহ হেকে ফিরতে না ফিরতেই ফোন – “পছন্দ হয়েছে তো সব?”
হাশিমুখে ফোন রাখতেই ওপারে চোখের কোণে ঈদের খুশি!
বন্ধুরা ! তাদের কথাই বলছি , আমাদের
পরম আপনজন – সেই সুদূরে যারা আমাদের হাসিমুখের দিকে তাকিয়ে ঈদের
খুশি খোঁজেন !
কেমন হয় তাদের ঈদ ? আমাদের মতো ?
হয়তো দিনটি তাদের কাটে কাজের মাঝে । যারা পরিবার নিয়ে
থাকেন, তারা হয়তো বেড়াতে যান অপর কোন এক স্বদেশীর কাছে , চেষ্টা করেন কষ্টটা
ভাগাভাগি করে নিতে । আর যারা পরিবার ছাড়া থাকেন, তারা হয়তো কাটিয়ে দেন বন্ধুদের
সাথে, ভালমন্দ রাঁধেন নিজ হাতে । কেউ কেউ হয়তো কাটিয়ে দেন ঘুমিয়ে, হতে পারে একটু
আনন্দে দিনটি কাটানোর সামান্য সামর্থ্যটুকুও তাদের নেই !
প্রবাসীদের উল্লেখযোগ্য একটা অংশ থাকে শিক্ষার্থী, পড়ালেখার
পাশাপাশি তাদের কাজ করতে হয় দিনযাপনের জন্য । হয়তো ঈদের দিনটিতে উপার্জনের আশায়
নেমে পড়েন । এ যে কঠিন বাস্তবতা !
প্রবাসীদের আরেকটা অংশ থাকে সমুদ্রগামী জাহাজের নাবিক ।
তারা হয়তো জানেনও না ঈদের নামাজটা আদায়ের সুযোগ হবে কিনা, প্রিয়জনের সাথে কথা বলা
হবে কিনা । তাদের ঈদটা হয়তো নীল সাগরের বুকে!
![]() |
বন্ধুরা ! এই হলো তাদের ঈদ । চলুন এবার দেখা যাক কিছু তথ্য
উপাত্ত-
বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি প্রবাসীদের
পাঠানো রেমিটেন্স । আধুনিককালে এ অঞ্চল থেকে প্রবাস যাত্রা শুরু হয় ১৯৪২ সাল থেকে
। ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় । সে সময় ব্রিটিশ সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচীর আওতায় তারা
বিলাত যেতে থাকেন । ১৯৭৬ সালে এ সংখ্যা ছিল প্রায় ছয় হাজার যা আজ ৯০ লাখের বেশি, জনসংখ্যার
অনুপাতে প্রায় ৫.৭ শতাংশ । বাংলাদেশ রপ্তানি বুর্যোর তথ্যানুযায়ী ২০১৩-১৪
অর্থবছরে রেমিটেন্সের পরিমান ছিল ১৪.২৩ বিলিয়ন ডলার , এটি বাংলাদেশে যে বৈদেশিক
সাহায্য আসে তার প্রায় ৭ গুন !
এতো গেলো সংখ্যাতাত্ত্বিক পর্যালোচনা । এবার দেখি তাদের অদৃশ্য
(qualitive) অবদান । আপনারা নিশয় ব্রিটিশ সাংসদ রুশনারা আলীর গল্প শুনেছেন , এমন
অসংখ্য বাংলাদেশি আছেন যারা বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন । তরুন
উদ্যোক্তা সাবিরুল ইসলামের কথা তো বলার অপেক্ষা রাখে না । এছাড়াও উল্লেখযোগ্য
সংখ্যক শিক্ষার্থী বিদেশে সফলতার সাথে পড়ালেখা করছেন । দ্যা ইকনমিস্টের জরিপে দেখা
গেছে ব্রিটিশ কারিকুলাম পরীক্ষায় প্রবাসী শিক্ষার্থীদের ৬১ শতাংশ ৫টিরও বেশি বিষয়ে
অন্যদের চেয়ে এগিয়ে । ২০১৩ সালে সৌদি আরবের আল ফয়সাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুষদে ৯ জন
বাংলাদেশি ছাত্র ডিন অ্যাওয়ার্ড পান । এমন উদাহরন অসংখ্য !
কিন্তু যে সংবাদটি গায়ে কাঁটা দেয় তা হলো প্রবাসে বাড়ছে
বাংলাদেশি মৃতের সংখ্যা । গত বছর শুধু মালয়েশিয়ায় মারা গেছেন ৭০ জন । এ তালিকায়
প্রথমে আছেন সৌদি আরব । গত ১০ বছরে সরকারি হিসেবে এ সংখ্যা ২৪ হাজার ৩শ ৮১জন ।এ
হিসেব কেবল বিমানবন্দরে গৃহীত মরদেহের নিবন্ধিত তালিকা । বেসরকারি মতে তা আরও বেশি
।
এতো ত্যাগের বিনিময়ে যা আমাদের চাহিদা জুগিয়ে যাচ্ছেন তাদের
জন্য আমাদেরও করণীয় আছে নিশ্চয় । আমাদের বৈদেশিক দূতাবাসগুলোতে আরও জোর পদক্ষেপ
জরুরী । পররাষ্ট্র ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ চাই ।
দিতে হবে তাদের জীবনের নিরাপত্তা, তাদের কষ্টার্জিত অর্থের নিরাপত্তা । এক্ষেত্রে
তাদের প্রতিনিধিত্ব দরকার । সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্ব কিংবা ভোটাধিকারও দেয়া যেতে
পারে । লাতিন আমেরিকা, ফ্রান্স, ইতালিসহ বেশকিছু দেশে এমন ব্যবস্থা চালু আছে ।
আসুন এবার আমরা তাদের জন্য কিছু করি । ঈদ মুবারাক ।
দেখুন আমার আন্তর্জাতিক ব্লগ
শরীফ মুস্তাজীব,
শিক্ষার্থী, আন্তর্জাতিক
সম্পর্ক বিভাগ, চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় 
No comments:
Post a Comment